বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
ইরান-ইসরাইল সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। ইহুদি সেনার আক্রমণে নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ ৬০ জন । শনিবার তাদের দাফন শুরু হয়েছে ইরানজুড়ে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের রাস্তায় বিশাল জনতা পতাকা এবং ব্যানার হাতে জড়ো হন। সিএনএন সূত্রে খবর, ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের লড়াইয়ের পর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিহত শীর্ষ কর্মকর্তা, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের দাফন সম্পন্ন হচ্ছে ইরানে। জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত রাজধানী তেহরানে ৬০ জনকে দাফন করা হয়েছে। এখনও রাখা রয়েছে সারি সারি কফিন। গোটা দেশজুড়েই এই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে এটি সম্প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে দেখা গেছে যে শোকাহতরা ইরানের লাল, সাদা এবং সবুজ রঙে মোড়ানো কফিন একটিবার স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বেষ্টনীতে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও দাফন প্রক্রিয়াস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। মঞ্চে রাখা বেশ কয়েকজন নিহত সামরিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতির মধ্যে মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি এবং জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরিও ছিলেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা যখন আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল, তখন জনতাদের মধ্যে কেউ কেউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিও বহন করছিলেন। নিহত হোসেইন সালামি ছিলেন গোপন ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিদের একজন। মোহাম্মদ বাঘেরি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের অনুমান ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে ৫,০০,০০০ এরও বেশি সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ইসরাইল সালামি এবং বাঘেরির মতো শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্বদের হত্যাকে নিজেদের বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছে।
গত ১৩ জুন ইরানে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইল। ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। মৃত্যু হয় ইরান সেনার চিফ অফ স্টাফ মুহাম্মদ বাঘেরি, রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেন সালামি, ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের কমান্ডার এবং দুই শীর্ষ সেনাকর্তার। প্রাণ হারান ইরানের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি। এছাড়াও পারমাণবিক গবেষণাকারী অন্তত ৯ জন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয় বলে জানায় ইরান।
সূত্র : সিএনএন